উপোবাস করে অবশ্যই পাঠ করুন মা কালীর অষ্টোত্তর-শতনাম

কালীপুজোর অঞ্জলী দেওয়ার আগে বা পরে মা কালীর অষ্টোত্তর শতনাম পাঠ করলে কিংবা শ্রবণ করলে প্রভূত পুণ্য অর্জন হয়। স্বয়ং মা কালীর আশীর্বাদে ধন্য হয় জীবন। তাই কালীপুজোর পুণ্য লগ্নে অষ্টোত্তর শতনাম পাঠ করা অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু আপনার কাছে যদি শ্রীশ্রী কালীর অষ্টোত্তর শতনাম এর বই না থাকে তাহলে আর চিন্তা নেই। আমরা এখন আপনাকে শ্রীশ্রী কালীর অষ্টোত্তর শতনাম এখানেই উপহার দিচ্ছি।

শ্রীশ্রী কালীর অষ্টোত্তর-শতনাম

করালিনী কালী মাগাে কৈবল্যদায়িনী।।১
জগদম্বা নামে তুমি বিমুক্তকারিণী।।২
দুঃখ নাশ করে বলি হলে দুঃখ হারা।
জগতের মাতা তুমি হও মনোহরা।। ৩
দনুজ দলনী করি দনুজ দলনী।৪
দুর্গতিনাশিনী তুমি দেবী নারায়ণী॥৫
দুর্গমাসুর বধ করে দুর্গা নামে খ্যাতা।৬
ত্রিলােচনী তুমি মাগাে জগতের মাতা৷৷৭
মুক্তি দান করি তুমি তার নাম ধরে।৮
তারিণী নামেতে তুমি জগৎ রক্ষা কর।৯
পূর্ণ ব্রহ্মময়ী তুমি ব্রাহ্ম সনাতনী।১০

পরমা প্রকৃতি তুমি সৃজনকারী।।১১
বেদের সৃজন করি হলে বেদমাতা।১২
যোগমায়া নামে তুমি ত্রিলোকপালিনী।। ১৩
রুদ্রের ঘরনী বলি হলো রুদ্রজায়া।১৪
অম্বিকা নামেতে তুমি হলে মহামায়া ॥১৫
অপর্ণা তুমি মা কালী জিলােকতারিণী।১৬
অন্নপূর্ণা তুমি মাতা ত্রিলোকপালিনী।। ১৭
মায়া বিস্তারিয়া মাগাে হলে মহামায়া।
বিপদে রেখে মা কোলে ওগাে হরজায়া ।।১৮
মৃগ নেত্র-সম বলি কুরঙ্গ নয়নি।১৯
রণেতে প্রমত্ত বলি চণ্ডী মা জননী।।২০

শঙ্করের জায়া বলি হলে মা শঙ্করী।২১
ভব-জায়া বলি তুমি ভবানী ঈশ্বরী।।২২
ভীষণ আনন্দ বলি করালবদনী।
দীনহীনে কর দয়া দনুজ দলনী।।২৩
কৃত্তিবাস হ’ল বাবা বাগছাল পরি।
কৃত্তিবাস দারা তাই তুমি মা শঙ্করী।।২৪
পাপী নাশিনী কালী মুণ্ডমালিনী।
অধীনে করো মা দয়া তুমি কাত্যায়নী।। ২৫
কুলকুণ্ডলিনী মাগাে তুমি মহাসতী।২৬
ষড়ৈশ্বৰ্য্যময়ী বলে না ভগবতী।। ২৭
জগত-জননী মাগাে কালী কপালিনী।
কটিতে ঘুঙুর পরি হলে মা কিঙ্কিণী।। ২৮
শঙ্কর কপালে ধ’রে হলেন কপালী।
কপাল মালিনী তাই তুমি মহাকালী॥২৯
কারণ প্রিয় মা তুমি করণকারিকা।
এ দিনে কর গো দয়া তুমি মা কালিকা ।।৩০

থাকে না কালের ভয় তোমার স্মরণে।
কালক্ষয়-বিনাশিনী তাই লোকে বলে ।।৩১
কামদাত্রী নামে তুমি কামনা পূরাও।৪৩
মহেশ্বরী নামে তুমি বক্ষে রও ।।৪৪
কাল কাদম্বরী মাগাে রাজরাজেশ্বরী।
ত্রিপুরা-নাশিনী তুমি ত্রিপুরসুন্দরী ।।৪৫
করুণাক্ষী হলে তুমি বিতরি করুণা।
দীনহীনে কর দয়া অনন্তনয়না ॥৪৬
ঈশান মহিষী তাই হইতে ঈশানী।৪৭
চন্ড মুন্ড বধ করি চামুণ্ডা রূপিণী।।৪৮
ত্রিলোক অধিষ্ঠাত্রী ত্রিলোক-ঈশ্বরী।
ত্রাণকর্ত্রী ত্রিনয়না ত্রিপুরা সুন্দরী।।
তুমি ক্ষুধা তুমি তৃষ্ণা বুদ্ধি স্বরূপিণী।৫০

সত্ত্ব রজঃ তমঃ ইতি ত্রিগুন ধারিণী।।৫১
তপা ময়ী তুমি মাতা দানব দলনী।।
ত্রিলোচন ত্রাণকর্ত্রী ত্রিলোকপালিনী।।৫২
তত্ত্বপরায়ণী তুমি সর্ব সিদ্ধিদাত্রী।
জগত পালন হেতু তুমি জগদ্ধাত্রী।।৫৩
দানিয়ে সারুপ্য মুক্তি হলে নারায়ণী।
ত্রিবলি-ধারিণী দুর্গে গুরুনিতম্বিনী ৫৪
ত্রিপুরা দলনী দেবী লজ্জা স্বরূপিণী।৫৫
মহিষ অসুর বধ মহিষমর্দিনী।।৫৬
জয় মাতা ত্রিনয়নী ত্রিফল স্বরূপা।
লম্বোদর-জননী মাতা তাপের অনুপাত ॥৫৭
ত্রিলােকপালিনী তুমি সৰ্ব্বপাপহরা।।
ত্রিশূলধারী কালী অর্ধেন্দুশেখর ৫৮
সদাই যােড়শী তা হলে যােড়শী।৫৯
অন্নপূর্ণা নামে তুমি থাক বারাণসী॥৬০

বরণ্যে বরদা সর্ব্বমঙ্গলা শিবানী।
সর্বেশ্বর সর্ব ধাত্রী ত্রিগুন ধারিণী ॥৬১
সাবিত্রী তুমি মা তারা মুক্তিবিধায়িনী।
শোক দুঃখ নাশিনী তুমি মা সৰ্ব্বাণী৷৷৬২
অশুভ নাশিনী কালী দুর্গতিনাশিনী।
ভগবতী সুরেশ্বরী অসুর ঘাতিনী ।।৬৩
সহস্রাক্ষ সপ্তশতী শঙ্করী ঈশ্বরী।৬৪
বিদ্যাদাত্রী সুখ প্রদান তুমি শাকম্ভরী ॥৬৫
শবো’পরি উপবিষ্টা সরোজবাসিনী।
ভূতপ্রেত সঙ্গিনী মা শ্মশানবাসিনী।। ৬৬
ধর্ম -অর্থ -কাম – মোক্ষ ফল -বিধায়িনী।
তুমি মা কালীকে দুর্গে শ্রীকৃষ্ণ-জননী ॥৬৭
অসুর বধ দেবী বরণ-উন্মাদিনী।।
সহস্রলোচন তারা দেবেন্দ্র জননী ৬৮
কর মা করুণা দিনে দনুজ দলনী।
সুভগা সুমুখী শিবা তুমি ত্রিলােচনী৷৬৯
কলুষ নাশিনী তুমি মুকতিদায়িনী।
বন্ধনী তুমি তারা মোচনকারী।৭০

দশভূজা চতুর্ভূজা কভু অষ্টভূজা।
অষ্টাদশভূজা আর কদাপি দ্বিভূজা।।৭১
বহুরূপী ধারিণী তুমি দীনতারিণী।
দীনহীনে কর দয়া মঙ্গলকারিণী ৷৷
রক্ত বস্ত্র-পরিধানা সুকেশী সুবেশী।।
রঙ্গ প্রাণনাথ তুমি দেবী এলোকেশী।৭২
সেতুবন্ধে হলে মাগাে তুমি রামেশ্বরী।
গোলাপকে তুমি মা দুর্গে গেলেক ঈশ্বরী।। ৭৩
ব্রজধামে হলে মাগাে তুমি ব্রজেশ্বরী।
হরমনােহরা রমা মহেশের শঙ্করী ।।৭৪
ভবানী ভুবনেশ্বরী ভুবনমোহিনী।
ভবতারিণী তারা ত্রৈলোক্যতারিনী।।৭৫
ভ্রুকুটি ভীষণ ভীমা তুমি ভয়ঙ্করী।
ভবভয়হারিণী মা তুমি ভয়ঙ্করী।।
ভগবতী এলোকেশী তুমি ভগবতী।
ভবেশধরণী দেবী তুমি ধূমাবতী।।৭৬
ভিক্ষুক-গৃহিনী সাজ তাই মা ভিক্ষুকী।৭৭
ত্রিনয়নী মুক্তকেশী ভারতী কৌশিকী।।৭৮
সৃষ্টিসংহারিণী কালী তুমি ছত্রেশ্বরী।
প্রলয়ের মা সৃষ্টি তুমি মহেশ্বরী।।৭৯
নিজমুণ্ড করো ছিন্ন হলে ছিন্নমস্তা।
কাতরে অভয়দান হও ব্যগ্ৰহস্তা৷।৮০

ছলনা করিয়া তুমি হলে ছলবতী।
গিরিরাজ-সুতা তুমি দেবী হৈমবতী।।৮১
শ্রীফল তোমার নাম ধাত্রী ফল প্রিয়া।৮২
শ্রীনিকেতন নামেতে হলে বিষ্ণুপ্রিয়া।। ৮৩
ধূসর বরণে তুমি হও ধূমাবতী।
মহাবিদ্যা রূপভেদে তুমি মহাসতী ।।৮৪।
ধূম্রাক্ষ নাশিনী তুমি হর মোহিনী।
দীনহীনে কর দয়া তুমি নারায়ণী।। ৮৫
ধানসী ধরিত্রী দেবী তুমি কাত্যায়নী।৮৬
হরমনােহরা রমা ধূর্জটি কাহিনী।। ৮৭
ধনদাত্রী ধনহরা ধৰ্ম্মবিধায়িনী।৷৮৮
বগলা তুমি মা তারা সুবুদ্ধি দায়িনী ।।৮৯
বৈষ্ণবী বসুধা দুর্গে দুর্গতিনাশিনী।
মহেশ মদোন্মত্ত মহিষ ঘাতিনী ॥৯০

বিশালাক্ষী নামে তুমি বিশাল লো।
নিজগুণে গুণহীনে কর মা করুণা ॥৯১
শারদা শরৎ প্রিয়া শিব সনাতনী।৯২
বসুন্ধরা জগন্মাতা বরদা বারুণী ॥৯৩
জলরূপে তুমি মাগাে হও দ্রবময়ী।
ব্রহ্মাণ্ড-উদরী তুমি, তুমি ব্রহ্মময়ী॥৯৪
বিশ্ব মাতা বিশ্বজয়ী তুমি এলোকেশী।
অকিঞ্চনের কর দয়া ওগো ব্যোমকেশী ।।৯৫
বাগবাদিনী তুমি মাতা তুমি বীণাপাণি। ৯৬
তুমি মা পুরুষোত্তম বিমলা রূপিণী।।৯৭
বহু রূপ ধরে বলি মা তুমি বহুরূপীনি।
রণেতে দুর্জয় মাগাে দৈত্যবিনাশিনী।।৯৮
মাতঙ্গী তুমি মা তারা ত্রিলোকপালিনী।৯৯
বিশ্বময়ী মহেশ্বরী মলয় বাহিনী।। ১০০

ক্ষীণােদর বলি, মাগাে হলে মন্দোদরী।
দীনহীনে কর কৃপা তুমি মহেশ্বরী।। ১০১
মধু আর কৈটভ এর করিয়া সংহার।
মধু কৈটভ নাশিনী নাম যে তােমার।।১০২
লক্ষ্মী স্বরূপিণী তুমি, তুমি মা কমলা।
কুরুকুল্লা কপালিনী তুমি মা চঞ্চলা।। ১০৩
বয়সে কিশোর সদা তাই মা কিশোরী।
পীনোন্নত পয়োধরা কুমারী শঙ্করী ।।১০৪
গিরিরাজ-সুতা সতী কৈলাসবাসিনী।১০৫
কল্যান দায়িনী সদা তাই মা কল্যাণী ॥১০৬।
গণেশ-জননী তুমি গিরিশ-নন্দিনী।১০৭
হরমনােহরা রমা গিরীশমােহিনী ॥১০৮


কালীর-অষ্টোত্তর শতনাম স্তোত্র হ’ল সমাপন।
আনন্দেতে হরি ধ্বনি কর স্বজন।
এই অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।
ভক্তিভাবে কিম্বা যে করিবে শ্রবণ।।
ধনরত্নে তার গৃহ হইবে পূরণ।
অন্তিম সময়ে পায় কালীর চরণ।।
অনন্ত মহিমাময় কালি-শতনাম।
শ্রবণে পঠনে হয় সিদ্ধ মনস্কাম।।
পুত্রের পুত্র হয় নির্ধারণের ধন।
অন্তিমে কালীর পদ পায় সেই জন।।
কালী বলে কালী ব’লে অন্তিম সময়।
কালী করুণাময়ী যেন প্রাণ যায়।।
তোমার অভয় পদে লইনু শরণ।
দীন অকিঞ্চনে মাগাে করাে নাম বঞ্চন৷৷

:সমাপ্ত:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*