মর্ত্যে কীভাবে শরৎকালে দুর্গাপূজার প্রচলন হল ? জেনে নিন সেই ইতিহাস

রাজা সুরথ বসমন্তকালে দুর্গাপূজার প্রচলন করেছিলেন। বসন্তকালে দেবীর পূজা করেছিলেন বলে দেবী বাসন্তী নামে পরিচিতা হন। কিন্তু আমরা মূলত দুর্গাপূজা করি শরৎকালে। এর পিছনে কারণ কি? আমরা অনেকেই তা জানি। কারণ, অকাল-বোধন করে এই শারদীয়া দুর্গাপূজার প্রচলন করেন রামচন্দ্র।

অকালবোধন অর্থ ‘অসময়ে জাগরণ’। উত্তরায়ণে দেবদেবীগণের দিন এবং দক্ষিণায়ণে দেবদেবীগণের রাত। তাই উত্তরায়ণে দেবদেবীগণ জাগ্রত থাকেন এবং দক্ষিনায়ণে নিদ্রিত থাকেন। তাই উত্তরায়ণেই অধিকাংশ দেবদেবীর পূজা করা হয়। শরৎকাল দক্ষিণায়ণে হওয়ায় দেবী তখন নিদ্রিত থাকেন। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালের দেবী দুর্গার আরাধনা তথা পূজা করেছিলেন রামচন্দ্র। রাবণ বধের জন্য বর কামনায় দেবীকে অকালে জাগ্রত করেন এই শরৎকালে।

বৃহৎ ধর্মপুরাণ অনুসারে, রামচন্দ্র দেবীর অকাল-বোধন করেছিলেন আশ্বিনের কৃষ্ণ নবমীতে। দেবী রাম চন্দ্রকে বর দিয়েছিলেন, ”আশ্বিনের শুক্লা সপ্তমীতে আমি তোমার (শ্রীরামের) অস্ত্রে প্রবেশ করবো, অষ্টমীতে রাম-রাবণের প্রবল যুদ্ধ শুরু হবে। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে তুমি (রাম) রাবণের দশটি মস্তক ছিন্ন করবে। সে মস্তক আবার পুনর্যোজিত হবে। নবমীতে তোমার (রাম) দ্বারা রাবণ নিহত হবে।” দেবীর বর অনুসারে নবমীতে রাবণ নিহত হওয়ার পর দশমীতে রামচন্দ্র ও বানরসেনারা বিজয়-উল্লাস করেন। সেজন্য দশমীকে মহাবিজয়া বলা হয়।

শারদীয় দুর্গোৎসব মহিষাসুরমর্দিনী রূপে বাঙালির সমাজে শান্তি স্থিতি সর্বজনীনতা বয়ে আনে। ভেদাভেদ হিংসা অশুভ শক্তির বিচারক দূর হয়ে যায় সমাজ থেকে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*