মহাতীর্থ ৫১ সতীপীঠ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে (পর্ব- ১০)

সতীপীঠ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদনের শেষ পরবে এসে হাজির আমরা। শিবহীন যজ্ঞ করে ত্রিভুবনে মহাদেব শিবের গুরুত্বকে ভুলণ্ঠিত করতে চেয়েছিল দক্ষ রাজা। কিন্তু তার কন্যা অর্থাৎ শিবের পত্নী সতী তা মানতে পারেননি। তিনি যজ্ঞে উপস্থিত হন। সেখানে দক্ষ রাজা শিবকে চূড়ান্তভাবে কটূক্তি করে। স্বামী নিন্দা শুনে সহ্য করতে না পেরে আগুনে আত্মাহুতি দেন সতী। সতীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন শিব। ধ্বংস করেন দক্ষযজ্ঞ। স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য করতে থাকেন। সারা বিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। তখন ভগবান বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ কে 51 টি খন্ডে ছিন্ন করেন। সেই খণ্ডগুলো জেরে স্থানে পড়েছিল সেখানে একেকটি সতীপীঠ শক্তিপীঠ গড়ে ওঠে। এই গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রথম থেকে নবম পর্বে আমরা 51 সতী পীঠের কয়েকটি সম্পর্কে জেনেছি। আজ দশম তথা শেষ পর্বে থাকছে আরও কয়েকটি সতী পীঠের ছবি ও বর্ণনা।

৪৭.সাঁইথিয়া
এটি নন্দীকেশ্বর মন্দির নামে পরিচিত। বীরভূমের স্টেশন থেকে ১.৫ কিমি দূরে অবস্থিত। এখানে দেবীর গলার আভূষণ বা হার পতিত হয়। দেবীর নাম নন্দিনী। ভৈরবের নাম নন্দীকেশ্বর।


৪৮. কিরীট
মুর্শিদাবাদের কিরীটকোনা গ্রামে এই সতীপীঠ অবস্থিত। এখানে দেবীর কিরীট বা মাথার মুকুট পতিত হয়। দেবী এখানে বিমলা নামে পরিচিত। ভৈরবের নাম সম্বর্ত।


৪৯. ভৈরব পাহাড়
ভৈরব পাহাড় মধ্যপ্রদেশের অবন্তী নগরে অবস্থিত। এখানে দেবীর ওষ্ঠ পড়েছিল। দেবী এখানে অবন্তি নামে পরিচিত।


৫০. প্রভাস
গুজরাটের জুনাগড়ে সোমনাথ মন্দিরের কাছে দেবীর উদর পতিত হয়েছিল। দেবীর নাম চন্দ্রভাগা। ভৈরব বক্রতুন্ড।


৫১. অমরকণ্টক
মধ্যপ্রদেশের শোন নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে তীর্থস্থান। এখানে দেবীর বাম নিতম্ভ পতিত হয়। দেবী এখানে কালী রূপে অবস্থান করছেন। অসিতানন্দ নামে ভৈরব পূজিত হন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*