মহাতীর্থ ৫১ সতীপীঠ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে (পর্ব- ৩)

আজ আমরা সতীপীঠ বা শক্তিপীঠ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদনের তৃতীয় পরবে এসে হাজির। শিবহীন যজ্ঞ করে ত্রিভুবনে মহাদেব শিবের গুরুত্বকে ভুলণ্ঠিত করতে চেয়েছিল দক্ষ রাজা। কিন্তু তার কন্যা অর্থাৎ শিবের পত্নী সতী তা মানতে পারেননি। তিনি যজ্ঞে উপস্থিত হন। সেখানে দক্ষ রাজা শিবকে চূড়ান্তভাবে কটূক্তি করে। স্বামী নিন্দা শুনে সহ্য করতে না পেরে আগুনে আত্মাহুতি দেন সতী। সতীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন শিব। ধ্বংস করেন দক্ষযজ্ঞ। স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য করতে থাকেন। সারা বিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। তখন ভগবান বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ কে 51 টি খন্ডে ছিন্ন করেন। সেই খণ্ডগুলো জেরে স্থানে পড়েছিল সেখানে একেকটি সতীপীঠ শক্তিপীঠ গড়ে ওঠে। এই গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে আমরা 51 সতী পীঠের কয়েকটি সম্পর্কে জেনেছি। আজ তৃতীয় পর্বে থাকছে আরও কয়েকটি সতী পীঠের ছবি ও বর্ণনা।

অট্টহাস

১৩. অট্টহাস
এখানে দেবীর ওষ্ঠ পতিত হয়। দেবীর নাম ফুল্লরা। ভৈরব বিশ্বেশ্বর । কাটোয়া সাবডিভিশনের নিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই শক্তিপীঠ।


১৪. কন্যাকুমারীকা
ভারতের সবচেয়ে দক্ষিণের অংশে এই শক্তিপীঠ। তামিলনাড়ুর রাজ্যে অবস্থিত। এখানে দেবীর পীঠ পতিত হয়। দেবীর নাম এখানে সর্বাণী। ভৈরব নিমিষ।

বৃন্দাবন


১৫. বৃন্দাবন
বৃন্দাবনে দেবীর চুলের আভূষণ পতিত হয়। এখানে দেবীর নাম উমা বা কাত্যায়নী। ভৈরবের নাম ভূতেশ।

পটে পুজিতা হন
কঙ্কালীতলা


১৬. কঙ্কালীতলা
বোলপুর স্টেশন থেকে ১০ কিমি উত্তর-পূর্বে কোপাই নদীর তীরে অবস্থিত। দেবী কঙ্কালেশ্বরী নামে পরিচিত। এখানে দেবীর শ্রোণি পতিত হয়। দেবীর নাম এখানে দেবগর্ভা। ভৈরব রূরূ নাম। কোনও বিগ্রহ প্রতিমা নেই এখানে। দেবী স্ব-ইচ্ছায় পটে পুজিতা হন।

জলন্ধর


১৭. জলন্ধর
পাঞ্জাবের জলন্ধরে দেবীর বাম স্তন পতিত হয়। দেবীর নাম ত্রিপুরমালিনী। ভৈরব ভীষণ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*