মহাতীর্থ ৫১ সতীপীঠ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে (পর্ব- ৬)

এবার শক্তিপীঠ বা সতীপীঠ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদনের ষষ্ঠ পরবে এসে হাজির আমরা। শিবহীন যজ্ঞ করে ত্রিভুবনে মহাদেব শিবের গুরুত্বকে ভুলণ্ঠিত করতে চেয়েছিল দক্ষ রাজা। কিন্তু তার কন্যা অর্থাৎ শিবের পত্নী সতী তা মানতে পারেননি। তিনি যজ্ঞে উপস্থিত হন। সেখানে দক্ষ রাজা শিবকে চূড়ান্তভাবে কটূক্তি করে। স্বামী নিন্দা শুনে সহ্য করতে না পেরে আগুনে আত্মাহুতি দেন সতী। সতীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন শিব। ধ্বংস করেন দক্ষযজ্ঞ। স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য করতে থাকেন। সারা বিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। তখন ভগবান বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ কে 51 টি খন্ডে ছিন্ন করেন। সেই খণ্ডগুলো জেরে স্থানে পড়েছিল সেখানে একেকটি সতীপীঠ শক্তিপীঠ গড়ে ওঠে। এই গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রথম থেকে পঞ্চম পর্বে আমরা 51 সতী পীঠের কয়েকটি সম্পর্কে জেনেছি। আজ ষষ্ঠ পর্বে থাকছে আরও কয়েকটি সতী পীঠের ছবি ও বর্ণনা।

২৭. অমরনাথ
ভূস্বর্গ কাশ্মীরের অমরনাথে অবস্থিত এই পীঠ। এখানে দেবীর কন্ঠ পতিত হয়। এখানে দেবীর নাম মহামায়া। ভৈরবএখানে ত্রিসন্ধ্যেশ্বর রূপে বিরাজ করছেন।


২৮. শ্রী শৈল
বাংলাদেশের সিলেটের জৈনপুর গ্রামে অবস্থিত। এখানে দেবীর কন্ঠ পতিত হয়। দেবীর নাম এখানে মহালক্ষী। ভৈরব সম্বরানন্দ।


২৯. ভরতপুর
রাজস্থানের বিরাট নগর জেলায় এই তীর্থস্থান। এখানে দেবীর বাম পায়ের পাতা পতিত হয়। দেবী অম্বিকা নামে পরিচিতা। ভৈরব অমৃতেশ্বর নামে পূজিত।


৩০. পশুপতিনাথ
এখানে দেবীর উভয় হাঁটু পতিত হয়। দেবী মহাশিরা নামে পূজিতা। ভৈরবের নাম কপালী। এই মন্দির গুহ্যেশ্বরী মন্দির নামেও পরিচিত।


৩১. বিভাস
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের কাছে দেবীর বাম পায়ের গাঁট পতিত হয়। দেবীর নাম কপালিনী বা ভীমরূপা। ভৈরব সর্বানন্দ। একে বর্গভীমা মন্দিরও বলা হয়।