মহাতীর্থ ৫১ সতীপীঠ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে (পর্ব- ৭)

শক্তিপীঠ বা সতীপীঠ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদনের সপ্তম পরবে এসে হাজির আমরা। শিবহীন যজ্ঞ করে ত্রিভুবনে মহাদেব শিবের গুরুত্বকে ভুলণ্ঠিত করতে চেয়েছিল দক্ষ রাজা। কিন্তু তার কন্যা অর্থাৎ শিবের পত্নী সতী তা মানতে পারেননি। তিনি যজ্ঞে উপস্থিত হন। সেখানে দক্ষ রাজা শিবকে চূড়ান্তভাবে কটূক্তি করে। স্বামী নিন্দা শুনে সহ্য করতে না পেরে আগুনে আত্মাহুতি দেন সতী। সতীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন শিব। ধ্বংস করেন দক্ষযজ্ঞ। স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য করতে থাকেন। সারা বিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। তখন ভগবান বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ কে 51 টি খন্ডে ছিন্ন করেন। সেই খণ্ডগুলো জেরে স্থানে পড়েছিল সেখানে একেকটি সতীপীঠ শক্তিপীঠ গড়ে ওঠে। এই গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রথম থেকে ষষ্ঠ পর্বে আমরা 51 সতী পীঠের কয়েকটি সম্পর্কে জেনেছি। আজ সপ্তম পর্বে থাকছে আরও কয়েকটি সতী পীঠের ছবি ও বর্ণনা।

৩২. নাসিক
মহারাষ্ট্রের গোদাবরী নদীর তীরে নাসিকে দেবীর চিবুক পতিত হয়। দেবী এখানে ভ্রামরী নামে পরিচিত। ভৈরবের নাম বিক্রিতাক্ষ।


৩৩. কর্নাট
হিমাচলপ্রদেশের কাঙরা অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে দেবীর কর্ণযুগল পতিত হয়। দেবী জয়দুর্গা নামে পূজিতা হন। ভৈরব আভীর।


৩৪. সুগন্ধা
বাংলাদেশের বরিশালের শিকারপুরে দেবীর নাক পতিত হয়। দেবীর নাম সুগন্ধা। ভৈরব ত্রয়ম্বক।


৩৫. ভবানীপুর
বাংলাদেশের রাজশাহীর শেরপুরে দেবীর বাম পায়ের মল বা নূপুর পতিত হয়। এখানে দেবীর নাম অপর্ণা। ভৈরব এখানে ভীমসেন। শেরপুর টাউন থেকে ২৮ কিমি দূরএ এই শক্তিপীঠ।


৩৬. মিথিলা
নেপাল ও ভারতের সীমানার কাছে জনকপুর রেল স্টেশনের কাছে অবস্থিত। এখানে দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধ পতিত হয়। দেবীর নাম এখানে উমা। ভৈরব মহোদর।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*