মহাতীর্থ ৫১ সতীপীঠ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে (পর্ব- ৮)

সতীপীঠ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদনের অষ্টম পরবে এসে হাজির আমরা। শিবহীন যজ্ঞ করে ত্রিভুবনে মহাদেব শিবের গুরুত্বকে ভুলণ্ঠিত করতে চেয়েছিল দক্ষ রাজা। কিন্তু তার কন্যা অর্থাৎ শিবের পত্নী সতী তা মানতে পারেননি। তিনি যজ্ঞে উপস্থিত হন। সেখানে দক্ষ রাজা শিবকে চূড়ান্তভাবে কটূক্তি করে। স্বামী নিন্দা শুনে সহ্য করতে না পেরে আগুনে আত্মাহুতি দেন সতী। সতীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন শিব। ধ্বংস করেন দক্ষযজ্ঞ। স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য করতে থাকেন। সারা বিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। তখন ভগবান বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ কে 51 টি খন্ডে ছিন্ন করেন। সেই খণ্ডগুলো জেরে স্থানে পড়েছিল সেখানে একেকটি সতীপীঠ শক্তিপীঠ গড়ে ওঠে। এই গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রথম থেকে সপ্তম পর্বে আমরা 51 সতী পীঠের কয়েকটি সম্পর্কে জেনেছি। আজ অষ্টম পর্বে থাকছে আরও কয়েকটি সতী পীঠের ছবি ও বর্ণনা।

৩৭. উদয়পুর
ত্রিপুরার উদয়পুর অঞ্চলের রাধাকিশোর গ্রামে ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির। এখানে দেবীর দক্ষিণ পা পতিত হয়। দেবী ত্রিপুরাসুন্দরী নামে প্রসিদ্ধ। ভৈরবের নাম ত্রিপুরেশ।


৩৮. মানস
তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে এই তীর্থস্থান অবস্থিত। এখানে দেবীর দক্ষিণ হস্ত পতিত হয়। দেবী এখানে দাক্ষায়ণী নামে পরিচিত। ভৈরব অমর।


৩৯. পঞ্চসাগর
উত্তরাখন্ডের লোহাঘাট অঞ্চলে দেবীর নীচের দাঁত পতিত হয়। দেবী এখানে বারাহী নামে পরিচিতা। ভৈরবের নাম মহারুদ্র।


৪০. রত্নাবলী
হুগলীর রত্নাকর নদীর তীরে খানাকুল-কৃষ্ণনগরে এই তীর্থস্থান। এখানে দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধ পতিত হয়। দেবী কুমারী নামে পুজিতা। ভৈরব শিব রূপে পূজিত। মন্দিরটি আনন্দময়ী মন্দির নামেও পরিচিত।


৪১. শূচি
তামিলনাড়ুতে বিদ্যমান এই শক্তিপীঠ। এখানে দেবীর ওপরের দাঁত পতিত হয়। দেবী নারায়ণী নামে পূজিতা। ভৈরবের নাম সংহার।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*