মহাতীর্থ ৫১ সতীপীঠ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে (পর্ব- ৯)

শক্তিপীঠ নিয়ে লিখিত প্রতিবেদনের নবম পরবে এসে হাজির আমরা। শিবহীন যজ্ঞ করে ত্রিভুবনে মহাদেব শিবের গুরুত্বকে ভুলণ্ঠিত করতে চেয়েছিল দক্ষ রাজা। কিন্তু তার কন্যা অর্থাৎ শিবের পত্নী সতী তা মানতে পারেননি। তিনি যজ্ঞে উপস্থিত হন। সেখানে দক্ষ রাজা শিবকে চূড়ান্তভাবে কটূক্তি করে। স্বামী নিন্দা শুনে সহ্য করতে না পেরে আগুনে আত্মাহুতি দেন সতী। সতীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন শিব। ধ্বংস করেন দক্ষযজ্ঞ। স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্য করতে থাকেন। সারা বিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। তখন ভগবান বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ কে 51 টি খন্ডে ছিন্ন করেন। সেই খণ্ডগুলো জেরে স্থানে পড়েছিল সেখানে একেকটি সতীপীঠ শক্তিপীঠ গড়ে ওঠে। এই গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রথম থেকে অষ্টম পর্বে আমরা 51 সতী পীঠের কয়েকটি সম্পর্কে জেনেছি। আজ নবম পর্বে থাকছে আরও কয়েকটি সতী পীঠের ছবি ও বর্ণনা।

৪২. ত্রিহুত
মধ্যপ্রদেশের মৈহার অঞ্চলে ত্রিহুত পাহাড়ে এই তীর্থস্থান। দেবীর দক্ষিণ স্তন পতিত হয়। দেবী শিবানী, ভৈরব চন্ড।


৪৩. মণিবন্ধ
রাজস্থানের পুষ্করের কাছে গায়ত্রী পাহাড়ে অবস্থিত। এখানে দেবীর কবজি পতিত হয়। দেবীর নাম এখানে গায়ত্রী। ভৈরব সরবানন্দ।


৪৪. চন্দ্রনাথ পাহাড়
বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড স্টেশনের কাছে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে এই তীর্থস্থান। পাহাড়ের ওপর মন্দির। এখানে দেবীর দক্ষিণ হস্ত পতিত হয়। দেবী এখানে ভবানী নামে পূজিতা। ভৈরবের নাম চন্দ্রশেখর।


৪৫. কুরুক্ষেত্র
কুরুক্ষেত্র বা হরিয়ানার থানেশ্বরে এই শক্তিপীঠ। এখানে দেবীর পায়ের গাঁটের হাড় পতিত হয়। দেবীর নাম সাবিত্রী বা ভদ্রকালী। ভৈরবের নাম স্থানু।


৪৬.শোনদেশ
মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টকে নর্মদা নদীর উৎসে এই তীর্থ। এখানে দেবীর দক্ষিণ নিতম্ব পতিত হয়। দেবীর নাম নর্মদা। ভৈরব ভদ্রসেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*