৯৯ কেজি রূপোর কালী প্রতিমায় বাজিমাৎ বারাসাতের!

বারাসাতের কালী পুজো বরাবরই টিক্কা দেয় কলকাতা দূর্গা পুজাকে। থিম পূজার জাঁকজমক বারাসাতে কালীপুজো কে সারা ভারতের বিখ্যাত করে তুলেছে। কিন্তু এ বছরে বারাসাতের কালী পূজা রয়েছে এক অসাধারণ চমক। আসুন জানি সেই কালীপুজোর কথা।

বারাসাতের মৎস আরতদার কল্যাণ সমিতির এবারের কালীপুজোর থিম ‘সংকল্প’। কিন্তু এর চমক অন্য কোথাও। এর চমক হল প্রতিমা তে। প্রায় 99 কেজি খাঁটি রুপা ব্যবহার করে মা কালীর প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। আনুমানিক 16 লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়েছে পূজা কমিটিকে এই প্রতিমার জন্য। এই টাকা শুধুমাত্র প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত রূপার ভাড়া হিসেবেই নেওয়া হবে। প্রতিমা শিল্পী ইন্দ্রদীপ পোদ্দার। উড়িষা থেকে রুপা এনে শিল্পী এই কাজ করছেন। হাবরার বারুইপুরের একটি জায়গায় এই প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। 26 শে অক্টোবর প্রতিমা প্যান্ডেলে আসবে।

বাল্য বিবাহ, শিশু শ্রম, মাদক প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে সমাজ সচেতনতা তুলে ধরা হবে এবারের মণ্ডপে। মণ্ডপের সংকল্প এই সকল সামাজিক ব্যাধি সমাজ থেকে দূর করা। তাই এবারের থিম সংকল্প। এই সামাজিক মঙ্গলের বার্তাকে থিমের আধারে তুলে ধরা হবে।

বলে রাখা প্রয়োজন যে বারাসাতের মৎস্য আড়তদার উন্নয়ন সমিতির কালীপুজো প্রত্যেকবারই আলোড়ন তোলে। ভক্তিভরে মায়ের পূজায় তারা কোনো কার্পণ্য করেন না। এই পুজো কোন স্পন্সরশীপের মাধ্যমে হয় না। আরবদের সমিতির সদস্যরা নিজেরা চাঁদা তুলে এই পুজো করেন। তাই প্রথমে শিল্পী কুড়ি লক্ষ টাকা আত্মার করায় তারা তা দিতে অসমর্থ হচ্ছিলেন। এরপর শিল্পী 16 লক্ষ টাকায় রাজি হন।

মৎস্য আড়তদার সমিতির প্রায় 70 জন সদস্য মিলেমিশে পুজো করেন। পুজোর এ কদিন নিয়মিত প্রসাদ ভোগ চলে। 31 তারিখ নরনারায়ন সেবা অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়াও ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানটিও এখানে সাড়ম্বরে পালিত হয়। এবছর পূজামণ্ডপে একটি বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে যেসব মায়ের ছোট সন্তান আছে তাদের জন্য। শিশুকে দুগ্ধ পান করানোর জন্য তাদের জন্য একটি বিশেষ কেবিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।